রংপুরকে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রাজশাহী

খেলা

স্পোর্টস ডেস্ক.

সিলেট পর্বের প্রথম ও আসরের ২৯তম ম্যাচে আজ রংপুর রেঞ্জার্সকে ৩০ রানে হারিয়েছে রাজশাহী রয়্যালস। টানা দুই ম্যাচ হারের পর এই জয়ে বঙ্গবন্ধু বিপিএলে শীর্ষস্থান দখল করেছে দলটি। ৯ ম্যাচে ৬ জয় ও ৩ হারে রাজশাহীর সংগ্রহ ১২ পয়েন্ট। সমান পয়েন্ট চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সেরও। কিন্তু রান রেটে পিছিয়ে দ্বিতীয়স্থানে রয়েছে এতদিন শীর্ষস্থান ধরে রাখা দলটি। সমান ১০ পয়েন্ট নিয়ে পরের দুই টি স্থানে খুলনা টাইগার্স ও ঢাকা প্লাটুন।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্বান্ত নেয় রংপুর রেঞ্জার্স। ব্যাট হাতে নেমে দলকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন রাজশাহীর দুই ওপেনার লিটন দাস ও আফিফ হোসেন। ৪ ওভারে ৪৮ রান যোগ করেন তারা। এরমধ্যে ১২ বলে ২৯ রান ছিল আফিফের। পঞ্চম ওভারের পঞ্চম বলে রংপুরের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের বলে আউট হন লিটন। ১৫ বলে ১৯ রান করেন তিনি। পরের ওভারে আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবীর বলে বিদায় নেন আফিফও। ১৭ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় তার সংগ্রহ ৩২ রান। 

এরপর দলের হাল ধরেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক পাকিস্তানের শোয়েব মালিক। ইরফান শুক্কুরকে নিয়ে বড় জুটির চেষ্টায় ছিলেন তিনি। কিন্তু বেশি বড় হয়টি জুটিটি। ২০ বলে ২০ রান করে স্পিনার আরাফাত সানির বলে আউট হন শুক্কুর। তবে চতুর্থ উইকেট জুটিতে মারমুখী মেজাজে ৩৪ বলে ৪৮ রান দলকে উপহার দেন শোয়েব মালিক ও বোপারা। ১৭তম ওভারে ৩১ বলে ৪টি চারে ৩৭ রান করেদলীয় ১৩২ রানে আউট হন মালিক। মালিক ফিরলে ইনিংসের শেষদিকে দ্রুত রান তুলে রাজশাহীকে বড় সংগ্রহ এনে দেন বোপারা।

৪ উইকেটে ১৭৯ রানের সংগ্রহ পায় রাজশাহী। ইনিংসের শেষ ওভারে মুস্তাফিজকে শেষ তিন বলে তিনটি বাউন্ডারি মেরে ২৯ বলে হাফ-সেঞ্চুরি তুলে মাঠ ছাড়েন বোপারা। ৪ বাউন্ডারি এবং ৩ ওভার বাউন্ডারিতে অপরাজিত ৫০ রান করেন তিনি। পাকিস্তানের মোহাম্মদ নওয়াজকে নিয়ে পঞ্চম উইকেট জুটিতে আসে ২১ বলে অবিচ্ছিন্ন ৪৭ রান। ৯ বলে ২টি চারে ১৫ রানে অপরাজিত থাকেন নাওয়াজ। মুস্তাফিজুর রহমান ৪১ রানে ২ উইকেট নেন।

জয়ের জন্য ১৮০ রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই মন্থর ছিল রংপুরের ব্যাটিং। ১৫ বলে মাত্র ৩ রান করে বিচ্ছিন্ন হন দলের দুই ওপেনার মোহাম্মদ নাইম ও অধিনায়ক অস্ট্রেলিয়ার শেন ওয়াটসন। এরপর ব্যাট হাতে ঝড় তুলেন নাইম ও দক্ষিণ আফ্রিকার ক্যামেরন ডেলপোর্ট। মাত্র ১৩ বলে ৩২ রান যোগ করেন তারা। কিন্তু দলীয় ৪৭ রানের মধ্যে বিদায় ঘটে তাদের। ১৮ বলে ২টি করে চার-ছক্কায় ২৭ এবং ডেলপোর্ট ৭ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৪ রানে আউট হন। দুজনই রাজশাহীর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক শোয়েব মালিকের শিকার।

এরপর দলের হাল ধরেন ইংল্যান্ডের টম অ্যাবেল ও ফজলে মাহমুদ। দ্রুততার সাথেই রান তুলছিলেন তারা। ফলে ১৩ ওভারেই দলের স্কোর শতরানের পৌঁছে যায়। তারপরও এই রান যথেষ্ট ছিল না। শেষ ৭ ওভারে ৭৭ রান প্রয়োজন পড়ে রংপুরের। তবে দুই বলের মধ্যে দুই সেট ব্যাটসম্যান অ্যাবেল ও ফজলে মাহমুদ আউট হয়ে গেলে চাপে পড়ে যায় দল। সেই চাপ থেকে পরবর্তীতে ঘুড়ে দাঁড়াতে পারেনি রংপুর। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৪৯ রান পর্যন্ত যেতে সক্ষম হয় দলটি। ম্যাচ সেরা হয়েছেন রাজশাহীর বোপারা।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *