হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রম চালু

জাতীয় স্বাস্থ্য

স্বাস্থ্য ডেস্ক.

চালু হয়েছে সমজাকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সমাজসেবা অধিদপ্তরের ‘হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রম’। এর মাধ্যমে দুঃস্থ ও অসহায় রোগীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। যেখানে ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, থ্যালাসেমিয়া ও জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত দরিদ্র রোগীরা চিকিৎসার জন্য সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা পাবেন।

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত নীতিমালা অনুমোদন করা হয়েছে। ভূমিহীন, শিশু, নিঃস্ব, উদ্বাস্তু, বয়োজ্যেষ্ঠ, বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, বিপত্নীক, নিঃসন্তান, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিরাও এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। গত ২৪ অক্টোবর এই নীতিমালা অনুমোদিত হয় এবং ২৯ অক্টোবর এটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।

সরকারি এই গেজেটে বলা হয়েছে, ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, থ্যালাসেমিয়া ও জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত গরিব রোগীদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে, রোগীদের পরিবারের ব্যয়ভার বহনে সহায়তা করা এই নীতিমালার উদ্দেশ্য। এছাড়া চিকিৎসা চলাকালীন অবস্থায় আবেদনকৃত রোগীর মৃত্যু হলে, বরাদ্ধকৃত অর্থ পরিবারকে প্রদান, সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সহায়তায় এই নীতিমালা অনুমোদন করা হয়েছে।

সমাজসেবা অধিদপ্তর হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রমের মাধ্যমে দুঃস্থ ও অসহায় রোগীদের আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। ইতোপূর্বে ২০০৯-১০, ২০১০-১১, ২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ অর্থবছরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় অধিদপ্তরের মাধ্যমে ‘সাপোর্ট সার্ভিস ফর ভার্নারেবল গ্রুপ (এসএসভিজি)’ শীর্ষক প্রকল্পর আওতায় ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত গরীব রোগীদের এককালীন ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। দেশের ৯৪টি হাসপাতালে এবং ৪৯২টি উপজেলায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু স্ট্রোকে প্যারালাইজড ও জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক কর্মসূচি ২০১৩-১৪ অর্থ বছরের আগে ছিল না। যা বর্তমানে নিয়মিত কর্মসূচি হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে থ্যালাসেমিয়া।

বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির তথ্যমতে, দেশে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। বর্তমান এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ। অপর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা আর অসচেতনতায় আক্রান্ত রোগীদের ৬৬ শতাংশই অকালে মৃত্যু বরণ করে। সরকারি তথ্য মতে, দেশে দুই কোটির বেশি মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত। এরমধ্যে ৪০ শতাংশরই কিডনি বিকল হয়ে পড়ে। লিভার সিরোসিস একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং জটিল রোগ। এ রোগে আক্রান্তদের লিভার অকার্যকর হয়ে পড়ে। বাংলাদেশে স্ট্রোকে আক্রান্তের হার প্রতি হাজারে ৫ থেকে ১২ জন। স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীরা প্যারালাইজড হয়ে হঠাৎ কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। আক্রান্ত ব্যক্তি পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম হলে পরিবার ভীষণভবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রতিবছর প্রায় ৩০ হাজার শিশু হৃদরোগ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। চিকিৎসা ব্যবস্থা ব্যয়বহুল হওয়ায় এদের অনেকেরই মৃত্যু হয় চিকিৎসা না পেয়ে। দেশে প্রতিবছর প্রায় ৮ হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। বর্তমানে এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৩ লাখ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রায় ৪ দশমিক ১ ভাগ মানুষ বিটা থ্যালাসেমিয়ার বাহক। অর্থাভাবে এসব রোগে আক্রান্ত দরিদ্র রোগীরা চিকিৎসা বঞ্চিত।

যেভাবে পাওয়া যাবে এই সেবা- উল্লেখিত ৬টি রোগে আক্রান্ত রোগী সরাসরি সংশ্লিষ্ট উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কাছে আবেদন করবেন। আবেদনের ৭ দিনের মধ্যে তথ্য প্রাথমিক বাছাই শেষে উপ-পরিচালকের কার্যালয়ের পাঠানো হবে। উপ-পরিচালক পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে জেলা কমিটির কাছে অনুমোদনের জন্য পেশ করবে। অনুমোদনের পর সমাজসেবা কর্মকর্তার কাছে ক্রস চেক অথবা রোগীর ব্যাংক হিসাবে ইএফটি’র মাধ্যমে এই অর্থ দেওয়া হবে।

বাংলাদেশের দরিদ্র রোগীরা এই সেবার আওতাভুক্ত। তবে রোগীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। এছাড়া ভূমিহীন, শিশু, নিঃস্ব, উদ্বাস্তুকে ক্রমানাসুরে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশপাশি বয়োজ্যেষ্ঠ, বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, বিপত্নীক, নিঃসন্তান, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিরাও এই সুযোগ পাবেন।

আর্থিক সহযোগিতা পাওয়ার জন্য রোগীকে অবশ্যই রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট দেখাতে হবে। এক্ষেত্রে ক্যান্সার রোগীর ক্ষেত্রে হিস্টোপ্যাথলজি, সাইটোপ্যাথলজি, বোনম্যারো রিপোর্ট থাকতে হবে। কিডনি রোগীর ক্ষেত্রে অ্যাকিউট রেনাল ফেইলিউর অথবা ক্রোনিক রেনাল ফেইলিউর, রক্তের ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিনের রিপোর্ট থাকতে হবে। লিভার সিরোসিসের রোগীর ক্ষেত্রে আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টসহ অন্য রিপোর্ট এবং স্ট্রোকে প্যারালাইজড’র ক্ষেত্রে এআরআই, সিটিস্ক্যান রিপোর্ট থাকতে হবে।

অন্যদিকে জন্মগত হৃদরোগীর ক্ষেত্রে ইকো কার্ডিওগামসহ অন্য রিপোর্ট এবং থ্যালাসিমিয়া রোগীর ক্ষেত্রে হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রপ্ররোসিস রিপোর্ট দেখাতে হবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জুয়েনা আজিজ বলেন, কোনো আবেদনকারী এক বছরে একবারের বেশি আবেদন করতে পারবেন না। আবেদনের ক্ষেত্রে চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজ-পত্রের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্ম সনদ থাকতে হবে। তবে ভুল তথ্য বা মিথ্যা তথ্য দিলে আর্থিক সহায়তা বাতিল করা হবে।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *