মাংসের চর্বি কমানোর উপায়

স্বাস্থ্য

প্রতিদিনের স্বাস্থ.

  • মাংস হলুদ ও লবণ মেখে সিদ্ধ করে ফ্রিজে রেখে দিন। ওপরে চর্বি জমাট বাঁধলে সেই চর্বি ফেলে দিন।
  • কাঁচা মাংস একটি ঝাঁঝরিতে নিয়ে ফুটন্ত পানির পাত্রের মুখে বসিয়ে রাখুন। চর্বি গলে নিচের পাত্রে পড়বে। তারপর স্বাভাবিক নিয়মে রান্না করুন।
  • আগুনে ঝলসে রান্না করলে অথবা শিক কাবাব করে খেলে চর্বি অনেকখানি কমে।
  • যদি মনে হয় মাংসে তেল বেশি হয়েছে, তাহলে ঝোল বাদ দিয়ে মাংস খাওয়া ভালো।
    মাংস সংরক্ষণ
    সংরক্ষণের অজ্ঞতার জন্যও অনেক সময় খাবারটি দূষিত হয়ে পড়ে। মাংস কোটা, ধোঁয়া, প্যাকেট করা, ঠাণ্ডা করা, রান্না ইত্যাদিতে সতর্কতা প্রয়োজন। কাঁচা মাংসে সহজেই ব্যাকটেরিয়া বিস্তার লাভ করে। টিনিয়া সেলেনিয়াম নামক প্যারাসাইট লাল মাংসে থাকে। এটা দেহে বিশেষ এক ধরনের যক্ষ্মার জন্ম দেয়। এ জাতীয় জীবাণু অন্ত্র, পাকস্থলী, যকৃত প্রভৃতি জায়গায় প্রবেশ করে আমাদের অসুস্থ করে তোলে। অর্ধসিদ্ধ মাংস খেলে এ ধরনের রোগের বিস্তার ঘটে। সংরক্ষণের সময় মনে রাখতে হবে যাতে এর স্বাভাবিক স্বাদ ও গন্ধ বজায় থাকে। কাঁচা মাংসের স্বাভাবিক পানি ফেলে যত দ্রুত সম্ভব প্যাকেট করে ডিপ ফ্রিজে রাখা উচিত। এই ক্ষেত্রে নতুন প্যাকেট ব্যবহার করা ভালো। এতে বেশি দিন ভালো থাকে। ডিপ ফ্রিজে ১৮০ সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করলে অন্তত পক্ষে পাঁচ-ছয় মাস পর্যন্ত রাখা যায়।
    রান্না করা মাংস সংরক্ষণের ইচ্ছে থাকলে তাড়াতাড়ি ঠাণ্ডা করে ফ্রিজে রেখে দেয়াই উত্তম। যদি রান্না করা মাংস ফ্রিজের বাইরে রাখতে হয় তাহলে প্রথম দু’দিন দিনে দুইবার জ¦াল দিতে হবে। এরপর দিনে একবার জ¦াল দিলেই চলবে। এমনভাবে জ¦াল দিতে হবে যাতে মাংসের সম্পূর্ণ অংশে তাপ পৌঁছে যায়। তারপর ঠাণ্ডা না হওয়া পর্যন্ত ঢাকনা দেয়া যাবে না। গ্রামাঞ্চলে এখনও দেখা যায় মাংস ধুয়ে লবণ ও হলুদ মেখে রোদে শুকিয়ে বা আগুনের তাপে শুকিয়ে রাখা হয়। অনেকটা মাছের শুঁটকির মতো। কাঁচা হোক বা রান্না হোক সংরক্ষণের সময় পানি শুকিয়ে রাখলে বেশিদিন ভালো থাকবে। কিডনিতে পাথর হলে মাংস একেবারে বাদ দেয়া উচিত। এ ছাড়া বাতের সমস্যা থাকলে মগজ, গুর্দা, কলিজা সংরক্ষিত মাংস, স্যুপ বাদ দেয়া ভালো। কিডনির রোগ, উচ্চরক্তচাপ, যকৃতের রোগ, হৃদরোগের ক্ষেত্রে মাংস যত কম খাওয়া যায়, তত ভালো। অগ্ন্যাশয়ের রোগে প্রাণিজ চর্বি বাদ দেয়া ভালো।
    টকদই, অলিভওয়েল, লেবুর রস, রসুন বাটা, তেঁতুলের পানি, পেঁপে বাটা ইত্যাদি দিয়ে মাংস ম্যারিনেট করে রাখলে মাংসের ক্ষতিকর চর্বি কমানো যায়।
    যত পুষ্টিকর হোক না কেন, ঈদের সময় মাত্রাতিরিক্ত মাংস খেলে হজমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। ফলে মাথাব্যথা, বমি, পেটে ব্যথা, ডায়রিয়া ইত্যাদি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এজন্য প্রতিদিনই মাংস খাওয়া যাবে তবে মাত্রাজ্ঞান রেখে।
Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *