উপযুক্ত সংস্কার করলে আসবে রাজস্ব সফলতা জৌলুস হারাচ্ছে নগরীর সিটি চিকলি পার্ক

রংপুর

মেহেদী হাসান মুন.

রংপুর নগরীতে বিনোদনের জন্য সিটি চিকলী বিল ঘিরে গড়ে ওঠা সিটি চিকলি পার্ক নির্মাণের পরে পরিপাটি থাকলেও বর্তমানে এটি জৌলুস হারাচ্ছে। স্বল্প সময়ের মধ্যে যেমন স্থানীয়সহ দুর-দুরান্তের মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল তেমনটি আর নেই। ঘুরতে আসা বিনোদনপ্রেমী পরিবার-পরিজনেরা প্রচারেই প্রসার উল্লেখ করে বলেন, রংপুর সিটি করপোরেশন এটাকে ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে সঠিক পরিকল্পনা, সংস্কার, ব্যবস্থাপনা ও তদারকি করলে বেড়াতে আসা মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাড়বে রাজস্ব আয়। রাইডগুলোর অবস্থা খারাপ থাকায় যে কোন সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।

সিটি চিকলি পার্ক ঘুরে দেখা গেছে, বিলে নির্মিত স্পীড বোড, টাইটানিক জাহাজ, ময়ূরপঙ্খি নৌকাসহ বিভিন্ন নৌযান, শিশুদের চিত্ত বিনোদনের জন্য ট্রেন, নাগরদোলাসহ  বিভিন্ন ধরনের রাইড থাকলেও ২-১ টি ছাড়া প্রায় সবগুলোই বিকল । উৎসব ছাড়াও একটু নিড়িবিলি মনোমুগ্ধকর পরিবেশে সময় কাটাতে প্রতিনিয়ত আসে শিশু-কিশোরসহ সকল বয়সি মানুষ। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বন্ধুবান্ধব মিলে প্রায়ই আসে বনভোজনে। তবে নির্দিষ্ট পিকনিক স্পট না থাকায় বিভিন্ন বিড়ম্বনার শিকার হয় তারা  এমনটাই জানালেন ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা।

দর্শনার্থী ইফতেহাদ নুর ও মনোয়ার হোসেন ইমন বলেন, সকাল ১০ থেকে সন্ধ্যা ৬ পর্যন্ত পার্কটি খোলা থাকে। বসার স্থানগুলো সংস্কার করা দরকার। আগে লাইটিং সিস্টেম ছিল বর্তমান সেগুলোও নষ্ট । মাত্র ২/১ টা রাইডার ছাড়া বাকি সবগুলো বন্ধ আছে বিধায় লোকজনের আগমন অনেক কম। রাইডারগুলোকে দ্রুত সচলসহ বাচ্চাদের জন্য আরো খেলার সামগ্রী সংযোজন করলে ভাল হয়।

অপর দর্শনার্থী এম কে আলম তার নাতনীকে নিয়ে এসে জানান, প্রায়ই তার নাতনীর আবদার রাখতে এখানে এসে থাকেন। এটা অনেক এরিয়া জুড়ে তাই বিনোদনের জন্য আরো বেশী সুযোগ আছে মানুষকে আকৃষ্ট করার মত করে তৈরি করার। রাইডার, বিলের উপর ব্রীজ, কৃত্তিম চিড়িয়াখানাসহ নান্দনিক সরঞ্জাম বাড়ালে নগরির সেরা বিনোদন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

পার্কের ভিতরে দোকান ব্যবসায়ী বন্যা বলেন, ব্যবসা একটু খারাপ যাচ্ছে। সংস্কার, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে লোকজন কমে যাচ্ছে। এগুলোকে ঠিক করার পাশাপাশি পিকনিক স্পট থাকা দরকার। দরকার অনেক বেশী প্রচারের। লোক সমাগম বাড়লে আমাদের বিক্রিও বাড়বে।

সিটি চিকলি পাকে কর্মরত মোঃ আব্দুর রউফ বলেন, প্রায় ১ বছর ধরে রাইডারগুলো বন্ধের কারনে দর্শক কমে গেছে। রাইডার সংস্কারসহ বাড়ানোর পরিকল্পনা চলছে বলে আমি শুনেছি।

আব্দুস সামাদ বলেন, লাইটিং সিস্টেম বন্ধ আছে বিধায় আমরা নিজেদের অর্থায়নে কিছুটা ঠিক করেছি। বাকিগুলো কয়েকদিনের মধ্যে ঠিক করা হবে। পরবর্তীতে সিটি করপোরেশনে বিল জমা দেব।

রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের তথ্য গবেষনা সম্পাদক এজাজ মাহমুদ (রঞ্জু) বলেন, গত মেয়রের সময় যেমন ব্যাপক প্রচার-প্রসারনা ও জাকজমক পরিবেশ ছিল তেমনটি এখন আর নেই। দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের উদাসিনতার কারণে এমনটা হচ্ছে। অথচ সুদৃষ্টি দিলে বছরে কোটি টাকা রাজস্ব আয় হবে।

সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, সিটি চিকলি পার্ক সংস্কার ও নতুন কিছু রাইডার সংযোজনের জন্য আমরা ইতোমধ্যে প্রকল্প দাখিল করেছি। সামনে একনেক বৈঠকে উঠবে। প্রথম ধাপে হয়ত ৫০ কোটি টাকা বরাদ্ধ পাবো। পুরাতন রাইডারগুলো হাতে বানানো একেবারে অগ্রহণযোগ্য ও খুব ঝুঁকিপূর্ণ। এগুলোকে পুনরায় চালু করলে যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এখন যুগ অনেক ফাষ্ট। লেটেষ্ট টেকনোলজি ছাড়া এগুলো চলবে না বিধায় আগের শতভাগ রাইডারগুলোকে পরিবর্তন করে নতুন সংযোজন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *