গোবিন্দগঞ্জে চিকিৎসক ও নার্সের গাফিলতিতে নবজাতকের মৃত্যু

রংপুর

গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা প্রতিনিধি.

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সের গাফিলতিতে নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহত নবজাতকের বাবা সাজিদ আল হাসান গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মজিদুল ইসলাম ও নার্স বিউটি বেগমকে অভিযুক্ত করে স্থানীয় থানায় এজাহার দিয়েছেন। জানা গেছে, পৌর এলাকার খলসী (মিয়া পাড়া) গ্রামের সাজিদ আল হাসানের স্ত্রী নাঈমা সুলতানা তৃশা অন্তঃসত্তা হলে তিনি তার শরীর চেকআপের জন্য পৌর শহরের ‘নর্থ বেঙ্গল ডিজিটাল ডায়াগনোষ্টিক সেন্টারে ডাঃ মজিদুলের নিকট নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণ করতেন। তিশার সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার দিন এগিয়ে আসলে ডাঃ মজিদুল চেকআপ করে ১৪ সেপ্টেম্বর সন্তান ভূমিষ্টের তারিখ নির্ধারণ করেন। কিন্তু নির্ধারিত তারিখের আগেই গত ৩০ আগষ্ট প্রসব বেদনা উঠলে তৃশাকে ডাঃ মজিদুলের মালিকানাধীন নর্থবেঙ্গল ডিজিটাল ডায়াগনোষ্টিক সেন্টারে নেয়া হয়। কিন্তু ডা. মজিদুল তাকে ডায়াগনোষ্টিক সেন্টারে না নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। সেখানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্স বিউটি বেগম (৪৮)সহ আরো দুইজন তৃশার নরমাল ডেলিভারির সময় জোরপূর্বক পেটে বল প্রয়োগ করে গর্ভপাত ঘটান।  এতে ভূমিষ্ট নবজাতক আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এ অবস্থায়  নবজাতকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে তরিঘরি করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩১ আগস্ট সকালে নবজাতকটি মারা যায় এবং প্রসূতি তৃশার শারীরিক অবস্থাও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা সাজিদ আল হাসান বাদি হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় এজাহার দেন। এদিকে অভিযুক্ত ডাঃ মজিদুল গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা হওয়ায় ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য বিভিন্ন মহলে তদবির করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। থানার ওসি একেএম মেহেদী হাসান এজাহার পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, পরে এজাহারটি বাদি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তবে বাদি সাজিদ আল হাসান মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, পুলিশ নিহত নবজাতকের লাশ বুঝিয়ে দেয়ার কথা বলে একটি সাদা কাগজে তার স্বাক্ষর নিয়েছেন। এখন সেই কাগজটি মামলা প্রত্যাহারের আবেদন হিসেবে দেখাচ্ছে পুলিশ। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডাঃ মজিদুল গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা হয়েও দীর্ঘদিন থেকে গোবিন্দগঞ্জ হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন। স্থানীয় হওয়ায় তিনি কোন কিছুর পরওয়া করেন না। নানা দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়লেও অদৃশ্য কারণে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় না । এতে করে তিনি হাসপাতালটিকে নিজস্ব সম্পত্তি মনে করে নিজের ইচ্ছে মতো চালাচ্ছেন। মজিদুল ইসলাম অফিসে ঠিকমত সময় না দিয়ে গোবিন্দগঞ্জের বিভিন্ন ক্লিনিকে অপারেশন সহ নানা চিকিৎসা করে থাকেন। এতে করে হাসপাতালে চিকিৎসা সহ নানা ধরণের কাজে এসে   সাধারণ জনগণ ডাঃ মজিদুলকে অফিসে না পেয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করে বাড়ি চলে যেতে বাধ্য হয়। শুধু তাই নয় ডাঃ মজিদুল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ব্যক্তিদের তার সেট করা দালালদের দিয়ে ফুসলিয়ে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসালয় নর্থবেঙ্গল ডিজিটাল ডায়াগনোষ্টিক সেন্টারে পাঠিয়ে দেন। সেখানে রোগীদেও নিকট থেকে গলা কাটা মূল্য নিয়ে চিকিৎসা প্রদান করেন। সার্বিক বিষয়ে  ডাঃ মজিদুলের বক্তব্য নেয়ার জন্য তার ব্যবহৃত মোবইল  ০১৭১১১২৬৬৮১ নম্বরে বার  বার যোগাযোগ করে মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *